প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৭
শুধু একটি নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচন ভালো করার লক্ষ্য ইসির

শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আরও ভালোভাবে আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করেই কমিশনের দায়িত্ব শেষ নয়। ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই।

ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে চলছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান সিইসি। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে, যাতে অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা যায়।

নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচনব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ

নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা বলে জানিয়েছেন সিইসি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশন নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়।

এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেলে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সিইসি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীসহ সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

১০ মাস থেকে এক বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।