রাজনীতি

এই বিএনপি পলিটিক্যালি অনেক বেশি ম্যাচুরড।

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩৭

এই বিএনপি পলিটিক্যালি অনেক বেশি ম্যাচুরড। 

 

বিশেষ করে ক্ষমতায় বসার কয়েক মাস পরের বিএনপি থেকে এই বিএনপি শক্তিশালী স্টেইট রুলার হয়ে আত্মপ্রকাশ করছে।   

 

বিএনপির বিরুদ্ধে সোসাইটির এলিট শ্রেনীর মার্কিং ছিল, বিএনপি রাজনীতি বুঝে না। 

 

আর এই “রাজনীতি না বুঝা” তত্ত্বকে জায়েজ করার জন্যে এরা বিএনপিকে রাজনৈতিক ক্লাব হিসাবে প্রচার করেছে। 

 

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ঘাত প্রতিঘাত ভোগ করে বিএনপি যে ক্রান্তিকালে ক্ষমতায় আরোহন করেছে তাতে আশংকা ছিল রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা ও দলের ভারসাম্য রক্ষায় এবং এরকম ভূমিধ্বস বিজয়ের পর দলীয় কর্মীদের সুশৃংখল কমান্ডে রাখতে বিএনপি হিমশিম অবস্থায় পতিত হবে। 

 

বিএনপির লেজেগোবরে পরিস্থিতি দেখার আশায় অনেকেই দিবা স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল। 

 

আবারও সেই ক্লাব বিএনপিকে নাকানিচুবানি খেতে দেখতে পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়েছে অনেকেই। 

 

রাড্ডা ইস্যুতে বিএনপি তার সংরক্ষিত এমপিকে পদত্যাগ করিয়েছে। 

 

এমপির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ না থাকার পরেও বিএনপি তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে, কারন সেই বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেয়া সমিতির সাথে এমপির সংশ্লিষ্টতা আছে। 

 

ঘটনার সাথে এমপির কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও বিএনপি একশন নিয়েছে।

 

ঢাকার ফুটপাত হল চাঁদাবাজির আঁতুড়ঘর। প্রচলিত আছে ফুটপাতের দখলই একটা দলের শক্তি। ফুটপাত থেকেই মিছিল মিটিংয়ের লোকবল আসে। 

 

বিএনপি রাজনৈতিক দলের সেই ভরকেন্দ্রকেই উচ্ছেদের দুঃসাহস দেখিয়েছে। মিরপুরের ফুটপাত উচ্ছেদের মাধ্যমে বিএনপি ফুটপাত কেন্দ্রীক চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। 

 

এন্ড এই রাজনীতিতে পুরো মিরপুর এখন বিএনপিতে মুগ্ধ। 

 

৫ বছর এই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পারলে আগামী নির্বাচনে মিরপুরের সব আসন বিএনপির। 

 

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি সম্ভবত দ্বিধাগ্রস্থ ছিল। 

 

মির্জা আব্বাস বা অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মত জাঁদরেল কোন নেতা দক্ষিণে বিএনপি তৈরি করতে পারেনি। 

 

এই পরিস্থিতিতেই খোকা পূত্র ইশরাক প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই একটা ভুল করে বসে। বিএনপি যদি ফ্যাসিজমের দিকে চলার ইন্টেনশন রাখতো তবে এই ভুলকে পাত্তাই দিত না। 

 

কিন্তু বিএনপি এই ভুলকে ভুল হিসাবে রেড মার্ক করে এখানে দারুন এক রাজনৈতিক চাল দিয়েছে। বিএনপি ইশরাককে প্রতিমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করতে অর্ডার করে। 

 

তবে, এইখানে একটা সন্দেহের দোলনচল সৃষ্টি করে বিএনপি। এই দোলনচল আর ইশরাকের পদত্যাগ নিশ্চিতের যেই ইন্টার্ভাল সেই ইন্টার্ভালেই বিএনপি রাজনৈতিক গিয়ার শিফট করে দেয়। 

 

আমরা ইশরাকের সমালোচনা করেছি বাট জনমানুষ ইশরাককে তাদের নেতা হিসাবে গ্রহণ করে ফেলে। 

 

ইশরাকের পদত্যাগ হয়ে উঠে স্টেইজ শিফটিং অব দ্যা হিরো উইথ হিউজ স্ট্যান্ডিং ক্ল্যাপ।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে ইশরাকই একমাত্র রাজনীতিবিদ যে দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করার পরেও জনগনের এত ভালবাসা আর এত সম্মানে ভূসিত হল।

 

আর এই পদত্যাগের সাথে সাথে তারেক রহমানের দলের উপর কন্ট্রোল সম্পর্কে জনমানুষের স্পষ্ট ধারনা পৌঁছে গেল। সেই সাথে দলের অন্য নেতাদের কাছেও সিগন্যাল দেয়া হল। 

 

ইশরাক আর কোন ভুল না করে জনগনের ভালবাসার এই স্রোতকে ধারন করতে পারলে ঢাকা দক্ষিণ তার উত্তরাধিকারকে ফিরে পেতে যাচ্ছে। 

 

বিএনপির এই রাজনীতির কাছে এবার অন্যদের শিশু বলেই মনে হচ্ছে।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন