চেষ্টা করলে সফল হওয়ক যায়!!!
যে বয়সে বেশিরভাগ ছেলে স্কুলের হোমওয়ার্ক আর ভিডিও গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সে একটা ছেলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিংয়ের ১৪১ তলায় বসে নিজের কোম্পানি চালাচ্ছে।
ছেলেটার নাম Jainam Jain। বয়স মাত্র ১৪। থাকে দুবাইতে। আর তার অফিস - দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায়।
শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটা পুরোপুরি সত্যি।
৬ বছর বয়সে শুরু
জয়নমের জন্ম ভারতের পুনেতে। ৫ বছর বয়সে পরিবারের সাথে দুবাইতে চলে যায়। তার বাবা তাকে ব্যবসার জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন খুব ছোটবেলাতেই। জয়নম নিজেই বলেছে, "আমি মাত্র ৬ বছর বয়সে বাবার সাথে প্রথম বিজনেস মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। বাবা শুধু চেয়েছিলেন আমরা দেখে শিখি।"
সেখান থেকেই তার কৌতূহল শুরু।
ইউটিউব থেকে ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার
AI কোম্পানির অনেক আগেই, ৭ বছর বয়সে ছোট বোনের সাথে মিলে খুলেছিল ইউটিউব চ্যানেল - JJ Fun Time। প্রথমে খেলনা আনবক্সিং, পরে সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট। মাত্র তিন মাসেই ১ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার! আজ সেই চ্যানেলে দেড় লাখের বেশি ফলোয়ার।
স্কুলে পড়ার ফাঁকেই সে ৫০ দিনে ৫০টা বই পড়া, ৫০ দিনে ৫০টা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ নিতো। একবার তো ৫০ দিনে ভারত জুড়ে ৬০০০ কিলোমিটার ঘুরে ১২০টা মোটিভেশনাল ইভেন্ট করেছে, ৫০ হাজারের বেশি মানুষের সামনে কথা বলেছে।
১০৫ দিনে ক্লাস টেন শেষ!
সবচেয়ে চমকে দেওয়া ঘটনাটা ঘটে ১৩ বছর বয়সে। সে খুঁজে বের করে, Cambridge IGCSE পরীক্ষা বয়সের বাধা ছাড়াই দেওয়া যায়। জয়পুরের একটা স্কুলের সাহায্যে মাত্র ১০৫ দিনের প্রস্তুতিতে ক্লাস টেনের পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে ফেলে - যা সাধারণত ছেলেমেয়েরা ১৬-১৭ বছরে দেয়।
এরপর সে আর স্কুলে ফেরেনি। নিজেই একটা গ্যাপ ইয়ার নেয়। সিদ্ধান্ত নেয়, এবার নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটবে।
বুর্জ খলিফায় Mengo Engine
সেই স্বপ্নের নাম - Mengo Engine। একটি AI স্টার্টআপ, যা ছোট ব্যবসাগুলোকে মার্কেটিং, সেলস, কনটেন্ট তৈরি, কাস্টমার যোগাযোগ - সবকিছুতে সাহায্য করে। এক কথায়, ব্যবসার জন্য একজন AI কো-ফাউন্ডার।
আর এই কোম্পানির অফিস কোথায়? দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায়।
আইনের কারণে তার বাবা কো-ফাউন্ডার হিসেবে আছেন, কিন্তু জয়নম নিজেই বলে, এটা মূলত তার একার অপারেশন। মজার ব্যাপার হলো, সে কোনোদিন AI এর কোনো দামি কোর্সই করেনি। ইউটিউব, এক্সপেরিমেন্ট আর কৌতূহল থেকেই সব শিখেছে।
আজ তার ২টা পেটেন্ট আছে, আরও ৩টা পাইপলাইনে। TEDx-এ কথা বলেছে, বই লিখেছে, World CIO 200 Summit এর মতো বড় মঞ্চে তাকে 'Next Elon Musk' বলেও ডাকা হয়েছে।
দুবাই কেন?
জয়নম বলে, দুবাই তাকে সেই পরিবেশ দিয়েছে। এখানে দ্রুত টেকনোলজি গ্রহণ করা হয়, নেটওয়ার্কিং সহজ, আর বয়স নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না।
তার গল্পটা আসলে আমাদের একটা কথাই মনে করিয়ে দেয় - শুরু করার জন্য ৪০ বছর হওয়া লাগে না, ১৪ বছরই যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় সুবিধা বয়স নয়, শুরু করাটা।
যে ছেলেটা একসময় বোনের সাথে খেলনা খুলে ভিডিও বানাতো, আজ সে বুর্জ খলিফায় বসে ভাবছে কিভাবে AI দিয়ে ব্যবসা বদলে দেওয়া যায়।
এটাই হয়তো নতুন প্রজন্মের সাফল্যের সংজ্ঞা।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন