প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫২
নতুন রুপে ফিরছে গ্রাম সরকার পদ্ধতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর প্রক্রিয়া শুরু ||
ডেস্ক নিউজঃ
শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ৪৪ বছর পর আবারও ফিরছে। সবকিছু ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরই এই পদ্ধতি পুনরায় চালু করতে চায় বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’ এর একটি খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগ। খসড়ায় প্রতিটি গ্রামে একটি করে ‘গ্রাম সরকার’ ও এর মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম সরকার হবে ১৭ সদস্যের। সে হিসেবে সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়নের ৪১ হাজার ওয়ার্ডে প্রায় ৭ লাখ নেতৃত্বস্থানীয় লোকের নেতৃত্বে গ্রাম সরকার গঠিত হবে। একেবারেই প্রান্তিক পর্যায়ের এ শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সংখ্যাধিক্য থাকবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে গ্রামীণ উন্নয়ন,স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। নতুন করে এ ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা। তাদের মতে,এই গ্রাম সরকার ব্যবস্থায় বিগত আন্দোলন- সংগ্রামে ভূমিকা রাখা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হবে। বিশেষ করে গত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, হামলা -মামলার শিকার হয়েছেন,তাদেরকে গ্রাম সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মুরব্বি,শিক্ষক, সাবেক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী,কৃষক ও শ্রমিকদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান,সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থাও খাল খনন কর্মসূচির মতোই গ্রামে গ্রামে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। তাই এবার নির্বাচনি ইশতেহারে ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সরকার গঠনেরপর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, গ্রাম সরকার কার্যকর হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সরকারি সেবার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে । তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও জুয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমনটাই মত তাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা আবারও চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিএনপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের কল্যাণে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালুর মতোই গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে সরকারের আরেকটি মাইলফলক অর্জন। তিনি বলেন, গ্রাম সরকারে স্থানীয় পর্যায়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে যারা গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে খুবই অল্পসংখ্যক মানুষ জীবিত আছেন। এবারও তাদেরকে নিয়ে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে। এ ছাড়া তাদেরকে দিয়ে গ্রাম সরকারের নির্বাচিতদের ওরিয়েন্টেশন ( পরিচিতি সভা) করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে তারা কীভাবে কাজ করেছেন তা তুলে ধরা হবে। এজন্য বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে দলের নতুন নেতৃত্বে যারা আছেন তাদেরকে এই সরকারের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান, ধ্যান-ধারণা ভালো, সৎভাবে কাজ করে আসছেন তাদেরকে নিয়ে গ্রাম সরকার গঠন করা হতে পারে।
বর্তমানে সারা দেশে ৪ হাজার ৫৬৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ৯টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। সে হিসাবে সারা দেশে ৪১ হাজার ১১২ টি ওয়ার্ড আছে। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠিত হবে। একটি গ্রাম সরকারে সরকারপ্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক গ্রাম সরকার সর্বমোট ১৭ সদস্যের হবে।
তবে গ্রাম সরকারের সদস্যদের সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনগণের মতামত-পরার্মশ নিয়ে এই সরকার গঠন করা হবে।
বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাবেন না, তাদের মধ্য থেকেও যোগ্য ব্যক্তিদের গ্রাম সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।##
সিলেট থেকে আরো পড়ুন