আন্তর্জাতিক

সরকার গঠনে এগিয়ে নেতানিয়াহু, সামনে কঠিন হিসাব

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৯

ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে তাকে জোটের সমীকরণ মেলাতে হবে।

দখলদার দেশটির গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদেরও নির্ভর করতে হতে পারে আরব দলগুলোর ওপর। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোট গণনার অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রায় ৫৩টি আসন পেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেতে পারে ১৯টি আসন।


সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। ফলে কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের জন্য সরকার গঠনের পথও সহজ নয়। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন ইসরাইলের রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয়। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে আরব দলগুলোর প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে ইহুদি রাজনীতিকদের একাংশের। ফলে আইজেনকোটের সামনে সমর্থন জোগাড়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধিতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোটও পরিবর্তনের পক্ষে জনরায় এসেছে বলে দাবি করেছেন।

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আনুষ্ঠানিক ফল পাওয়ার পর দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করবেন। কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। ফলে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও আপাতত ক্ষমতায় থাকছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সমর্থন এবং রাজনৈতিক দর-কষাকষির ওপর।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন